থ্যালাসেমিয়া কিভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব?

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ হওয়ায় এটি ওষুধের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে সচেতনতার মাধ্যমে এটি শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো বিবাহ-পূর্ব রক্ত পরীক্ষা। যদি থ্যালাসেমিয়া বাহক একজন ব্যক্তি অন্য একজন বাহককে বিয়ে না করেন, তবে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়া মেজর হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক (মাইনর) এবং একজন সুস্থ ব্যক্তির বিয়েতে কোনো বাধা নেই। তাদের সন্তান বড়জোর বাহক হতে পারে, কিন্তু তারা অসুস্থ হবে না। সমস্যা তখনই হয় যখন দুজন বাহক বিয়ে করেন। সেক্ষেত্রে প্রতিবার গর্ভধারণে ২৫ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে সন্তান থ্যালাসেমিয়া মেজর হিসেবে জন্ম নেওয়ার। তাই বিয়ের আগেই হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষা করে নিজের স্ট্যাটাস জেনে নেওয়া উচিত। সাইপ্রাস, ইতালির মতো দেশগুলো এই স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে।

দ্বিতীয় ধাপের প্রতিরোধ হলো প্রসবপূর্ব নির্ণয় (Prenatal Diagnosis)। যদি কোনো বাহক দম্পতি সন্তান গ্রহণ করতে চান, তবে গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের পরীক্ষা করে দেখা যায় শিশুটি আক্রান্ত কি না। যদি ভ্রূণটি থ্যালাসেমিয়া মেজর হয়, তবে অনেক দেশে চিকিৎসকের পরামর্শে এবং ধর্মীয় ও আইনি বিধান মেনে গর্ভপাত করার সুযোগ থাকে। এছাড়া সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ে এই বিষয়ে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। 'জানুন, পরীক্ষা করুন এবং প্রতিরোধ করুন'—এই স্লোগানটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

Premium By Raushan Design With Shroff Templates

Related Posts