থ্যালাসেমিয়া রোগীদের খাদ্যাভ্যাস সাধারণ মানুষের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হতে হয়, বিশেষ করে আয়রন গ্রহণের ক্ষেত্রে। যেহেতু তাদের শরীরে আয়রন ওভারলোডের ঝুঁকি থাকে, তাই উচ্চমাত্রার আয়রনসমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন: গরু বা খাসির মাংস, কলিজা এবং অতিরিক্ত আয়রন সমৃদ্ধ কচুশাক বা পালং শাক নিয়মিত না খাওয়াই ভালো। তবে মনে রাখতে হবে, রক্তশূন্যতা কাটানোর জন্য আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে থ্যালাসেমিয়া রোগীর কোনো লাভ হয় না, উল্টো ক্ষতি হয়।
তবে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের শরীরে ফলিক এসিডের প্রচুর চাহিদা থাকে, কারণ নতুন রক্তকণিকা তৈরির জন্য শরীর প্রচুর ফলিক এসিড খরচ করে ফেলে। তাই চিকিৎসকরা প্রতিদিন ফলিক এসিড সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া হাড় মজবুত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার (যেমন: দুধ, দই, পনির) অত্যন্ত জরুরি, কারণ থ্যালাসেমিয়া রোগীদের হাড় সাধারণত দুর্বল ও পাতলা হয়।
একটি চমৎকার ঘরোয়া টিপস হলো খাবার খাওয়ার সময় বা ঠিক পরে চা বা কফি পান করা। চায়ের ট্যানিন এবং কফির ক্যাফেইন খাবার থেকে আয়রন শোষণ কমিয়ে দেয়। এটি থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য উপকারী। তবে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার (যেমন: লেবু, আমলকী) আয়রন শোষণ বাড়িয়ে দেয়, তাই এগুলো আয়রন চিলেশন ওষুধের সাথে নেওয়া উচিত নয়, বরং অন্য সময়ে খাওয়া যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফলমূল খাওয়া শরীরের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।