এক সময় মনে করা হতো থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুরা খুব বেশিদিন বাঁচে না। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বর্তমানে সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন এবং আধুনিক আয়রন চিলেশন থেরাপির মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগীরা দীর্ঘ ও মানসম্মত জীবন অতিবাহিত করতে পারেন। তারা পড়াশোনা করতে পারেন, চাকরি করতে পারেন এবং স্বাভাবিক সামাজিক জীবন যাপন করতে পারেন।
থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং মানসিক শক্তি ধরে রাখা। অনেক রোগী এখন সুস্থভাবে ৪০-৫০ বছর বা তার বেশি সময় পার করছেন। উন্নত বিশ্বে রোগীদের নিয়মিত মনিটরিংয়ের জন্য মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি টিম (হেমাটোলজিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট, এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট) কাজ করে, যা বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে। চিকিৎসার পাশাপাশি খেলাধুলা (তবে খুব পরিশ্রমের নয়), গান-বাজনা এবং সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকলে তাদের মানসিক অবসাদ দূর হয়।
ভবিষ্যতের চিকিৎসা হিসেবে জিন এডিটিং (CRISPR) এবং জিন থেরাপি আশার আলো দেখাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক রোগী জিন থেরাপির মাধ্যমে রক্ত নেওয়া ছাড়াই সুস্থ জীবন যাপন করছেন। যদিও এই চিকিৎসা এখনো অত্যন্ত ব্যয়বহুল, তবে আশা করা যায় আগামী এক-দুই দশকে এটি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে। থ্যালাসেমিয়া কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একে জয় করে একজন ব্যক্তি সমাজের সম্পদে পরিণত হতে পারেন।