থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য 'আয়রন ওভারলোড' একটি প্রাণঘাতী সমস্যা। যেহেতু এই রোগীদের নিয়মিত রক্ত নিতে হয়, সেহেতু প্রতিটি ইউনিট রক্তের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণ আয়রন শরীরে প্রবেশ করে। মানুষের শরীরের আয়রন বের করে দেওয়ার কোনো প্রাকৃতিক পদ্ধতি নেই (একমাত্র ঋতুস্রাব বা রক্তপাত ছাড়া)। ফলে এই অতিরিক্ত আয়রন শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে থাকে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হৃদপিণ্ড (Heart)। হার্টে আয়রন জমলে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যায় (Arrhythmia) এবং হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা কমে গিয়ে হার্ট ফেইলিয়র হতে পারে। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই কার্ডিয়াক জটিলতা। এছাড়া লিভার বা যকৃতে আয়রন জমলে সেখানে ক্ষত বা সিরোসিস হতে পারে, যা পরবর্তীতে লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
শরীরের হরমোন নিঃসরণকারী গ্রন্থি বা এন্ডোক্রাইন সিস্টেমও মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়। অগ্ন্যাশয়ে (Pancreas) আয়রন জমলে ইনসুলিন উৎপাদন ব্যাহত হয়, ফলে রোগীর 'ডায়াবেটিস' দেখা দেয়। পিটুইটারি গ্রন্থিতে আয়রন জমলে স্বাভাবিক বৃদ্ধি হরমোন এবং সেক্স হরমোন নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে শিশুর উচ্চতা বাড়ে না এবং বয়ঃসন্ধি বা পিউবার্টি সময়মতো আসে না। এছাড়া থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যাও দেখা দেয়। এই কারণেই থ্যালাসেমিয়া রোগীদের নিয়মিত আয়রন মাপার (Serum Ferritin) পরীক্ষা করা এবং নিয়মমাফিক আয়রন কমানোর ওষুধ খাওয়া বাধ্যতামূলক।