ক্রিয়েটিনিন হলো আমাদের শরীরের পেশীগুলোর বিপাক প্রক্রিয়ার একটি বর্জ্য পদার্থ। এটি রক্তে উৎপন্ন হয় এবং সুস্থ কিডনি একে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কিডনির কার্যকারিতার একটি প্রধান সূচক। সাধারণত একজন পুরুষের রক্তে ক্রিয়েটিনিনের স্বাভাবিক মাত্রা ০.৭ থেকে ১.৩ mg/dL এবং নারীর ক্ষেত্রে ০.৬ থেকে ১.১ mg/dL। যখন কিডনি রক্ত ফিল্টার করতে ব্যর্থ হয়, তখন রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যায়।
ক্রিয়েটিনিন বাড়ার মানে হলো কিডনি তার ফিল্টারিং সক্ষমতা হারাচ্ছে। তবে শুধু ক্রিয়েটিনিন দিয়ে কিডনি রোগের পূর্ণ অবস্থা বোঝা যায় না; এর সাথে বয়স এবং ওজন বিবেচনা করে GFR বের করতে হয়। পেশীবহুল দেহ বা অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ফলেও ক্রিয়েটিনিন সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। তবে এটি দীর্ঘস্থায়ীভাবে বেশি থাকা মানেই কিডনির ভেতরে কোনো সমস্যা আছে। মাত্রা খুব বেশি বেড়ে গেলে শরীর বিষাক্ত হয়ে পড়ে, যাকে ইউরেমিয়া বলা হয়। এমন অবস্থায় রোগীর বমি, চুলকানি, স্মৃতিভ্রম এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ক্রিয়েটিনিন কমানোর কোনো সরাসরি ওষুধ নেই; বরং কিডনি রোগের মূল কারণ (যেমন ডায়াবেটিস বা প্রেসার) নিয়ন্ত্রণ করে একে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হয়।