ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা সিকেডি (CKD) হলো কিডনির কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে যাওয়া। এটি সাধারণত পাঁচটি পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়, যা GFR (Glomerular Filtration Rate) নামক একটি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়।
পর্যায় ১: কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক থাকে (GFR ৯০-এর উপরে), কিন্তু প্রস্রাবে প্রোটিন বা অন্য কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়।
পর্যায় ২: কিডনির কার্যকারিতা সামান্য কমে যায় (GFR ৬০-৮৯)।
পর্যায় ৩: এই পর্যায়ে কিডনি মাঝারি ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয় (GFR ৩০-৫৯)। শরীর ফুলে যাওয়া বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
পর্যায় ৪: কিডনির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমে যায় (GFR ১৫-২৯)। এই পর্যায়ে ডায়ালাইসিসের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।
পর্যায় ৫ (ESRD): একে শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগ বলা হয় (GFR ১৫-এর নিচে)। এখানে কিডনি পুরোপুরি বিকল হয়ে যায় এবং বেঁচে থাকার জন্য ডায়ালাইসিস বা ট্রান্সপ্লান্ট অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
সিকেডির ভয়াবহতা হলো এটি একবার শুরু হলে পুরোপুরি নিরাময় করা কঠিন, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এর গতি কমিয়ে দেওয়া সম্ভব। অনেক রোগী বুঝতে পারেন না যে তারা পর্যায় ৪-এ পৌঁছে গেছেন কারণ উপসর্গগুলো দেরিতে প্রকাশ পায়। তাই নিয়মিত স্ক্রিনিং বিশেষ করে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।