"বেশি বেশি পানি পান করলেই কিডনি সুস্থ থাকে"—এই ধারণাটি সব সময় সঠিক নয়। সুস্থ ব্যক্তির জন্য সাধারণত প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস বা ২ থেকে ২.৫ লিটার পানি পান করা যথেষ্ট। তবে আবহাওয়ার অবস্থা, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তির ওজনের ওপর ভিত্তি করে এর পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। পানি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন ও পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়। পর্যাপ্ত পানির অভাবে প্রস্রাব গাঢ় হয়ে যায় এবং কিডনির ফিল্টারিং প্রক্রিয়ায় চাপ সৃষ্টি হয়।
তবে অতিরিক্ত পানি পান করাও কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একে 'ওয়াটার ইনটক্সিকেশন' বা হাইপোনাট্রেমিয়া বলা হয়। যখন কেউ শরীরের চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি পানি পান করে, তখন রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে যায়। এতে কোষগুলো ফুলে ওঠে এবং মস্তিষ্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা মাথা ঘোরা, বমি বা গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি ঘটাতে পারে। বিশেষ করে যাদের ইতিমধ্যে কিডনি রোগ বা হার্টের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে পানি পানের নির্দিষ্ট সীমা থাকে। কারণ তাদের কিডনি অতিরিক্ত পানি শরীর থেকে বের করতে সক্ষম হয় না। তাই পিপাসা অনুযায়ী পানি পান করাই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস। প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ বা সাদা হলে বুঝতে হবে পানির পরিমাণ ঠিক আছে।