কিডনিতে পাথর কেন হয় এবং এটি প্রতিরোধের উপায় কী?

কিডনিতে পাথর হওয়া একটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক সমস্যা। যখন প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম, অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিড বা ফসফরাসের মতো খনিজ পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং শরীর থেকে পর্যাপ্ত পানি নির্গত হয় না, তখন এই পদার্থগুলো জমাট বেঁধে পাথরে পরিণত হয়। পর্যাপ্ত পানি পান না করা কিডনিতে পাথর হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। এ ছাড়া অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, লাল মাংস বা উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার বেশি গ্রহণ এবং পারিবারিক ইতিহাস থাকলে পাথরের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার যেমন পালং শাক, বিট বা চকোলেট অতিরিক্ত খেলে কিছু মানুষের ক্যালসিয়াম-অক্সালেট পাথর হতে পারে।

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা। প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত যাতে প্রস্রাব পরিষ্কার থাকে। লেবুর শরবত বা সাইট্রাস জাতীয় ফল খাওয়া উপকারী, কারণ এতে থাকা সাইট্রেট পাথর জমতে বাধা দেয়। খাবারে লবণের পরিমাণ কমাতে হবে, কারণ লবণ শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বের করে দেয় যা পরে পাথরে পরিণত হতে পারে। অনেকে মনে করেন ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলে পাথর হয়, কিন্তু বাস্তবে পরিমিত ক্যালসিয়াম পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ছোট পাথর হলে সাধারণত প্রচুর পানি পানে তা বের হয়ে যায়, কিন্তু বড় পাথরের ক্ষেত্রে লিথোট্রিপসি বা সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

Premium By Raushan Design With Shroff Templates

Related Posts