ডায়াবেটিস হলো কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি' বলা হয়। যখন রক্তে শর্করার পরিমাণ দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকে, তখন কিডনির ভেতরে থাকা ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলো বা নেফ্রনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই নেফ্রনগুলোর কাজ হলো রক্ত ফিল্টার করা। অতিরিক্ত সুগার এই ফিল্টারিং সিস্টেমে চাপ সৃষ্টি করে এবং একসময় নেফ্রনগুলো তাদের কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। ফলে রক্ত থেকে বর্জ্য দূর হওয়ার পরিবর্তে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন (অ্যালবুমিন) প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যেতে শুরু করে।
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কিডনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে রক্তে শর্করার মাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিয়মিত 'HbA1c' পরীক্ষা করা এবং এটি ৭ শতাংশের নিচে রাখা বাঞ্ছনীয়। এ ছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি, কারণ উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিক কিডনি রোগকে আরও ত্বরান্বিত করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লবণের পরিমাণ কমানো এবং প্রোটিন গ্রহণের বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বছরে অন্তত একবার প্রস্রাবে অ্যালবুমিন এবং রক্তে ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করা উচিত। ধূমপান বর্জন করা এবং নিয়মিত হাঁটাচলা করা কিডনির রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। সময়মতো শনাক্ত করতে পারলে সঠিক ওষুধের মাধ্যমে কিডনির ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।