কিডনি রোগকে প্রায়ই "সাইলেন্ট কিলার" বলা হয় কারণ এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো খুব একটা স্পষ্ট হয় না। তবে কিছু নির্দিষ্ট সংকেত আছে যা খেয়াল করলে রোগটি আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব। প্রথম এবং প্রধান লক্ষণ হলো প্রস্রাবের পরিবর্তন। যদি দেখেন প্রস্রাবের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে বা খুব বেশি হচ্ছে, বিশেষ করে রাতে বারবার প্রস্রাব করার প্রয়োজন পড়ছে, তবে তা চিন্তার বিষয়। প্রস্রাবে ফেনা হওয়া (যা প্রোটিন বের হয়ে যাওয়ার লক্ষণ) বা প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া বা রক্ত দেখা যাওয়া কিডনি সমস্যার বড় সংকেত।
শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যাওয়া কিডনি রোগের আরেকটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ। কিডনি যখন বাড়তি সোডিয়াম এবং পানি বের করতে পারে না, তখন পায়ের পাতা, গোড়ালি, এমনকি চোখের চারপাশ ফুলে যায়। এ ছাড়া প্রচণ্ড ক্লান্তি অনুভব করা এবং কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হওয়া কিডনি বিকল হওয়ার লক্ষণ হতে পারে, কারণ রক্তে টক্সিন জমে গেলে লোহিত রক্তকণিকা কমে যায়। ত্বকে চুলকানি বা র্যাশ হওয়া, খাবারের রুচি চলে যাওয়া, বমি বমি ভাব এবং মুখে ধাতব স্বাদ পাওয়াও কিডনি রোগের লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ যা নিয়ন্ত্রণে আসছে না, তাও কিডনির সমস্যার কারণে হতে পারে। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পরীক্ষা করানো জরুরি।