থ্যালাসেমিয়া মূলত দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: আলফা থ্যালাসেমিয়া এবং বিটা থ্যালাসেমিয়া। হিমোগ্লোবিনের কোন প্রোটিন চেইনটি ত্রুটিপূর্ণ, তার ওপর ভিত্তি করে এই নামকরণ করা হয়।
আলফা থ্যালাসেমিয়া: আমাদের শরীরে চারটি আলফা গ্লোবিন জিন থাকে।
যদি একটি জিন নষ্ট থাকে, তবে ব্যক্তি 'সাইলেন্ট ক্যারিয়ার' হয় এবং কোনো লক্ষণ থাকে না।
দুটি জিন নষ্ট হলে তাকে 'আলফা থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট' বলা হয়, যা সামান্য রক্তশূন্যতা তৈরি করতে পারে।
তিনটি জিন নষ্ট হলে তাকে 'হিমোগ্লোবিন এইচ (HbH)' রোগ বলা হয়, যেখানে নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
চারটি জিনই নষ্ট হলে তাকে 'আলফা থ্যালাসেমিয়া মেজর' বলা হয়, যার ফলে ভ্রূণ গর্ভেই মারা যেতে পারে।
বিটা থ্যালাসেমিয়া: এটি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর দুটি প্রধান ধরন আছে:
বিটা থ্যালাসেমিয়া মাইনর (বাহক): এদের শরীরে একটি ত্রুটিপূর্ণ জিন থাকে। এরা সাধারণত সুস্থ থাকে এবং সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় সামান্য অ্যানিমিয়া ধরা পড়তে পারে। এরা রোগটি ছড়ায় কিন্তু নিজেরা বড় কোনো সমস্যায় ভোগে না।
বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর (আক্রান্ত): যখন বাবা-মা উভয়ের কাছ থেকেই ত্রুটিপূর্ণ জিন আসে, তখন এটি হয়। একে 'কুলি'স অ্যানিমিয়া'ও বলা হয়। এই রোগীদের বেঁচে থাকার জন্য সারাজীবন নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়।
এছাড়া বিটা থ্যালাসেমিয়া ইন্টারমিডিয়া নামে আরেকটি পর্যায় আছে, যা মেজরের চেয়ে কম গুরুতর কিন্তু মাইনরের চেয়ে বেশি জটিল। এক্ষেত্রে মাঝে মাঝে রক্ত নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।