একটি সাধারণ সামাজিক ভুল ধারণা হলো থ্যালাসেমিয়া একটি ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ। এটি সম্পূর্ণ ভুল এবং অবৈজ্ঞানিক। থ্যালাসেমিয়া কোনো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস দ্বারা ছড়ায় না। এটি শুধুমাত্র বাবা-মায়ের জিনের মাধ্যমে সন্তানের দেহে আসে। অর্থাৎ এটি একটি বংশগত (Genetic) রোগ। তাই থ্যালাসেমিয়া রোগীর সাথে মেলামেশা করলে, একসাথে খাবার খেলে, ছোঁয়া লাগলে বা একই পোশাক ব্যবহার করলে এই রোগ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এই ভুল ধারণার কারণে অনেক সময় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় বা তাদের প্রতি অবহেলা করা হয়, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। থ্যালাসেমিয়া রোগীর রক্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয় বলে অনেকে মনে করেন রক্ত আদান-প্রদানের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। বাস্তবে, সুস্থ ব্যক্তি যদি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে রক্ত দেয়, তবে সুস্থ ব্যক্তির কোনো ক্ষতি হয় না। বরং থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি যদি অন্য কাউকে রক্ত দেয় (যদিও তারা সাধারণত রক্ত দেওয়ার অবস্থায় থাকে না), তবে গ্রহীতা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হবে না, কারণ এটি হাড়ের মজ্জার ত্রুটি, রক্তরসের নয়।
তবে রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রে একটি সতর্কতা জরুরি—যদি রক্তদাতার শরীরে আগে থেকে হেপাটাইটিস বি, সি বা এইচআইভি-র মতো রোগ থাকে, তবে তা গ্রহীতার শরীরে যেতে পারে। এটি থ্যালাসেমিয়ার সমস্যা নয়, বরং অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা। তাই থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য নিরাপদ ও স্ক্রিনিং করা রক্ত নিশ্চিত করা জরুরি। সমাজকে সচেতন করতে হবে যে থ্যালাসেমিয়া একটি জন্মগত ক্রুটি, কোনো অভিশাপ বা ছোঁয়াচে ব্যাধি নয়।